কালিহাতী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : কালিহাতী সদরের দক্ষিণ বেতডোবা মেঘাখালি এলাকায় ঝিনাই নদীতে পিকনিকের নৌকা থেকে পড়ে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তি ঘাটাইল উপজেলার করিমপুর গ্রামের মৃত কুরবান তালুকদারের ছেলে শাহ আলম তালুকদার (২৯)।
রবিবার দুপুর দেড়টায় মেঘাখালি ব্রিজের নিচে এ ঘটনাটি ঘটে। ৪০ জন যাত্রী নিয়ে পিকনিকের নৌকাটি গতকাল সকাল ১১টায় ঘাটাইলের করিমপুর থেকে ছেড়ে আসে। সখিপুর উপজেলার বহেড়াতৈল পিকনিক স্পটে রাতযাপন শেষে রোববার সকাল সাড়ে দশটায় রওনা দিয়ে দুপুর মেঘাখালি পৌঁছালে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজ যুবক এক ছেলে ও মেয়ের জনক, পেশায় যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রা চালক।
নৌকাটিতে থাকা নিখোঁজ ব্যক্তির চাচাতো ভাই আসলাম তালুকদার ও কবির হোসেন জানান শাহ আলম নৌকার সামনে বসা ছিল। হঠাৎ করে মাথা ঘুরিয়ে বা ঘুম ঘুম অবস্থায় সে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সাব অফিসার মো. আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে দুই জন ডুবুরিসহ ছয় সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। স্থানীয় যুবক সুমন, জোবায়ের, সৈকত, সজীব উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন।
এসময় নদীর দুপারে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল কাদের জানান, দুই দফায় তিন ঘন্টার উদ্ধার চেষ্টায় আমাদের ডুবুরি রুহুল আমিন, এনামুল সহ ছয়জনের চেষ্টায় নিখোঁজ শাহ আলমের কোনও খোঁজ না পেয়ে সন্ধ্যা ছয়টায় আমরা উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ শরফুদ্দীন এ বিষয়ে বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে দর্শনীয় স্থান, পিকনিক স্পট গুলো বন্ধ রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
নিহতের চাচাতো ভাই রাসেল মুঠোফোনে বলেন, শাহ আলমের উপরই নির্ভরশীল ছিলো মা, স্ত্রী, এক ছেলে, মেয়ে, ছোট ভাই। পুরো পরিবারটি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়লো।
নিখোঁজ শাহ আলমের ছোট বোন বিউটি আক্তার আহাজারি করতে করতে বলেন আমার ভাইরে জীবিত না হলেও লাশ টা কমপক্ষে দেন।
Discussion about this post